অনেক ঝড় ঝাপটা কাটিয়ে পাঁচটি বছর পেরিয়ে গেল ঢাবি অধিভুক্ত সমন্বিত সাত কলেজ। কিন্তু আশানুরূপ অগ্রগতি এখনও বহুদূর। কিছু জটিলতা আজও আছে যা কাটিয়ে উঠতে পারলে সমন্বিত সাত কলেজ হবে দেশের অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সবচেয়ে বড় ব্যর্থতার কথা হচ্ছে ঢাবি ও সাত কলেজের মাঝে শিক্ষা-মানের সমন্বয়হীনতা। একই বিশ্ববিদ্যালয় অথচ ঢাবির কেন্দ্রীয় বিভাগ ও ইন্সটিটিউট সমূহের থেকে সাত কলেজ অনেক পিছিয়ে। ঢাবির শিক্ষামানে এমন ব্যবধান কাম্য নয়। প্রশাসনের কিছু পদক্ষেপই সাত কলেজের পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার বর্তমান সমীকরণে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে। সাত কলেজের জটিলতা কাটিয়ে উঠতে কিছু পয়েন্ট উল্লেখ করছিঃ
১) সাত কলেজের আসন সংখ্যা অর্ধেক কমানোঃ সাত কলেজের আসন সংখ্যা ধারণাতীত। প্রতিবছর প্রায় ২৩ হাজার + শিক্ষার্থী প্রবেশ করছে সাত কলেজে। তাছাড়া ঢাকা কলেজে সর্বমোট শিক্ষার্থী ২৫ হাজার+, তিতুমীর কলেজে ৬০ হাজার+, ইডেনেও প্রায় একই। যেখানে ঢাবির নিজস্ব শিক্ষার্থী সর্বসাকুল্যে ৪৫ হাজার। সুতরাং বোঝা যাচ্ছে, সাত কলেজের প্রতিটি কলেজের গুরুভার প্রায় ঢাবির সমতুল্য বা বেশি৷ এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী নিয়ন্ত্রনে ঢাবিকে বেশ হিমশিম খেতে হচ্ছে। এছাড়াও বিপুল পরিমান শিক্ষার্থী হওয়ার দরুন বিভিন্ন কলেজে ক্লাসরুম ও শিক্ষক সংকট শিক্ষামানের উন্নয়নে গলার কাটা।
২) শিক্ষক ছাটাইঃ
সাত কলেজে অনেক ব্যাক-ডেটেট শিক্ষক রয়েছে যারা সময়োপযোগী পাঠদানে অসমর্থ। শিক্ষামানের উন্নয়নে এই শিক্ষকবৃন্দদের ছাটাই করে যথাযথ কোয়ালিটি সম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগ একান্ত অপরিহার্য।
৩) সেমিস্টার পদ্ধতি প্রবর্তনঃ,
ঢাবির সাথে সাত কলেজের শিক্ষামানের সমন্বয়ে ঢাবির মতই সেমিস্টার পদ্ধতির প্রবর্তন অতীব প্রয়োজন। এতে ইয়ারলি পদ্ধতির তুলনায় সিজিপিএ ভাল করা সম্ভব। তবে বিষয়টি ঢাবির জন্য বেশ কষ্টসাধ্য হবে। সারা বছর পরীক্ষা নিয়েই হাপিয়ে উঠবে ঢাবি। এক্ষেত্রে সেশন জট লাগার সম্ভাবনা বেশি৷ তবে আসন সংখ্যা অর্ধেকে আনলে সেমিস্টার পদ্ধতিই হবে সর্বোত্তম।
৪) টিএসসি(TSC) চালু করাঃ
সাত কলেজের প্রতিটি কলেজে সক্রিয় টিএসসি চালু করতে হবে। প্রতিটি কলেজে সম্ভব না হলে সাত কলেজের একটি কেন্দ্রীয় টিএসসি প্রদান করতে হবে।।
৫) অবকাঠামোগত উন্নয়নঃ
সাত কলেজের প্রতিটি কলেজে একটি লাইব্রেরি, একটি প্রার্থনালয়, একটি ডাইনিং নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি আবাসিক সংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ছাত্রাবাস নির্মাণ করতে হবে।।
৬) স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত ও গবেষণায় অংশগ্রহণের সুযোগ বৃদ্ধিঃ
সাত কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রতিটি কলেজে মেডিকেল সেবা ও এম্বুলেন্স চালু করতে হবে৷ পাশাপাশি গবেষণায় অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করতে হবে। গণহারে মাস্টার্স না বন্ধ করে থিসিস (গবেষণা) এর উপর মাস্টার্স ডিগ্রি প্রদান করতে হবে৷ সাত কলেজের জন্য কেন্দ্রীয় গবেষণাগার তৈরি করতে হবে।
৭) সাত কলেজ পরিচালনায় আলাদা এডমিনিস্ট্রেটিভ ভবন নির্মাণ ও লোকবল নিয়োগ প্রদান করতে হবে। যাতে ঢাবির অবকাঠামোর উপর চাপ কমে যায়। এতে ঢাবি ও সাত কলেজের বেশ উপকার হবে।
৮) ক্লাসরুম ও পরীক্ষার হল আলাদাঃ
সরকারি সাতটি কলেজের অবস্থান রাজধানীতে হওয়ায় বিভিন্ন চাকুরির পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় এইসব কলেজে। তাছাড়া সারা বছর বিভিন্ন একাডেমিক পরীক্ষা লেগেই থাকে। যার জন্য বছরের অধিকাংশ সময়ই ক্লাস স্থগিত থাকে। তাই ক্লাসরুম ও পরীক্ষার হল আলাদা করতে হবে। যাতে পরীক্ষার সময় ক্লাসবন্ধ না হয়।
৯)পরিবহনের সংখ্য বৃদ্ধিঃ
সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের বাস চালকদের সাথে সারা বছর সংঘর্ষ করে টিকে থাকতে হয়। এ ধরনের সংঘর্ষে পাব্লিক প্লেসে কলেজের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়। তাই প্রতিটি কলেজে প্রয়োজনীয় সংখ্যক পরিবহণের ব্যবস্থা করতে হবে যাতে এধরনের সংঘর্ষ বন্ধ হয়।
১০) বিভাগ ভিত্তিক দায়বদ্ধতা বৃদ্ধিঃ
প্রতিটি শিক্ষকের যাতে বিভাগভিত্তিক দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পায়, ছাত্রদের প্রতি যত্নশীল হয় তা নিয়ম করে বাধ্যতামূলক করতে হবে।
সর্বোপরি, ঢাবির শিক্ষামানের সমতাল অর্জনে যা করা প্রয়োজন তা অবশ্যই করতে হবে।
নচেৎ, অযৌক্তিক হলেও অক্সফোর্ডের আদলে সাত কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় এ রূপান্তর করতে হবে।
কপিরাইটঃ সাত কলেজ ব্লগ
লেখকঃ
আব্দুল্লাহ আল জিহাদ
ইংরেজি বিভাগ
ঢাকা কলেজ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন